যৌনশক্তি বৃদ্ধি, দ্রুত শারীরিক সক্ষমতা অর্জন কিংবা আকর্ষণীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে নানা ধরনের হালুয়া, পাওয়ার হানি, হারবাল ক্যাপসুল ও ভেষজ ট্যাবলেট। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রায়ই শতভাগ প্রাকৃতিক, দ্রুত কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হওয়ার দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই না করে পণ্য ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পণ্যকে প্রাকৃতিক বা ভেষজ বলা হলেই সেটি নিরাপদ প্রমাণিত হয় না। বিশেষ করে যৌনশক্তি বৃদ্ধির নামে বিক্রি হওয়া অননুমোদিত পণ্যে কী উপাদান রয়েছে, তা নিশ্চিত না হয়ে সেবন করা বিপজ্জনক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বিভিন্ন সময়ে যৌনশক্তি বৃদ্ধির নামে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যে লেবেলে উল্লেখ না থাকা ওষুধের উপাদান শনাক্ত করেছে।
২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি ‘DEEP’ নামের একটি যৌনশক্তিবর্ধক পণ্যে অ্যামিনো টাডালাফিল থাকার কথা জানায়। একই বছরের মে মাসে ‘X10 Natural Enhancement Supplement’ নামের একটি পণ্যে সিলডেনাফিল ও টাডালাফিল শনাক্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করে সংস্থাটি। এসব উপাদান যথাক্রমে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সক্রিয় উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ ধরনের উপাদান চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাইট্রেটজাতীয় ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাই এ ধরনের পণ্য ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তবে বিদেশে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যে এসব উপাদান শনাক্ত হওয়ার তথ্য থেকে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সব পণ্য সম্পর্কে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশের কোনো পণ্যে কী উপাদান রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার ফল প্রয়োজন।
অশ্বগন্ধা, আলকুশি ও শিলাজিৎ-জাতীয় উপাদান বিভিন্ন ভেষজ পণ্যে ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদানের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নির্ভর করে উপাদানের ধরন, পরিমাণ, প্রস্তুতপ্রণালি এবং ব্যবহারকারীর শারীরিক অবস্থার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথের তথ্য অনুযায়ী, অশ্বগন্ধার কিছু প্রস্তুতি স্বল্পমেয়াদে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা সেবনের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। এটি থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে এবং কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
তাই শুধু ভেষজ উপাদান রয়েছে বলে কোনো পণ্যকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়। একইভাবে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া কোনো উপাদান সেবনে নির্দিষ্ট রোগ হবে বা স্থায়ী যৌন অক্ষমতা তৈরি হবে, এমন দাবিও করা উচিত নয়।
যৌন সক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, হরমোনের সমস্যা, মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সমস্যার কারণ শনাক্ত না করে অনলাইনে প্রচারিত পণ্য ব্যবহার করলে মূল রোগের চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধ বা অজানা উপাদানসমৃদ্ধ ভেষজ পণ্য গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। যৌন সমস্যা দেখা দিলে নিবন্ধিত ও যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার আগে তার উপাদান, প্রস্তুতকারকের পরিচয়, অনুমোদন ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। দ্রুত ফল, শতভাগ নিশ্চয়তা কিংবা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, এমন দাবি দেখেই পণ্য কেনা উচিত নয়।
যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা বা সংকোচের কারণে অনিরাপদ পণ্য ব্যবহারের পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পথ। সাময়িক উপকারের আশায় অজানা উপাদান গ্রহণ করলে উল্টো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
সতর্ক থাকুন, যাচাই করে পণ্য কিনুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।