খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও নিম্নবিত্ত রোগীদের সরকারি সেবার পরিবর্তে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
বহির্বিভাগে মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকার নানা ধরনের পরীক্ষার তালিকা।
প্রকাশিত একাধিক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগের বেশ কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধের পাশাপাশি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের পরিবর্তে সিবিসি (CBC), পিবিএফ (PBF), ইউরিন পরীক্ষা, ইসিজি (ECG), ইকো ডপলার, ট্রোপোনিন-আই (Troponin-I), আল্ট্রাসনোগ্রাম ও সিরাম ক্রিয়েটিনিনসহ একগুচ্ছ পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, এসব পরীক্ষা হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে না করিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানোর পরামর্শও সরাসরি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনেক পরীক্ষা করার সুযোগ বা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কেন বাইরে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসা-যাওয়ার সুযোগে অসাধু চক্রের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ‘কমিশন বাণিজ্য’।
কিছু অসাধু সদস্য ও প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সমঝোতায় এই বাণিজ্য বছরের পর বছর ধরে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে চলে আসছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এর আগে চলতি বছরের মার্চেও খুমেক হাসপাতালে সরঞ্জাম সংকট ও দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ নজরদারির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি বললেই চলে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও জনবল সংকটের কথা জানানো হলেও, অনিয়ম বন্ধে কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সচেতন মহলের দাবি—কেবল তদন্তের আশ্বাস বা মৌখিক নির্দেশনায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতালকে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত করতে, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন অডিট, সিসিটিভি নজরদারি এবং হাসপাতালের ল্যাবের সক্ষমতা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
১০ টাকার টিকিট কেটে আসা অসহায় রোগীর স্বাস্থ্য ও পকেট রক্ষায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।