মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে আয়সা আক্তার নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের জোরালো অভিযোগ, যৌতুকের ৫ লাখ টাকা না পেয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পটভূমি ও পারিবারিক বিরোধ
নিহত আয়সা আক্তার জেলার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও সাহানাজ বেগমের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে আবদুল ওহাবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে আয়সাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সম্প্রতি তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে পরিবার অস্বীকৃতি জানালে, স্বামী আবদুল ওহাব ভবিষ্যতে আর কোনো নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে জোর করে বাড়ি নিয়ে যান।
৫ লাখ টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি
নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আয়সার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বাড়ির উঠানে পড়ে রয়েছে আয়সার নিথর মরদেহ। অথচ ঘটনার পর থেকেই স্বামী আবদুল ওহাব ও তার পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। নিহতের ভাই একাধিকবার স্বামীর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি; পরবর্তীতে একটি শিশু ফোন ধরে জানায় যে বাড়িতে কেউ নেই।
পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, তারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।