কর্মসংস্থানের দিক থেকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবিকার সন্ধানে এ অঞ্চলে আসছেন। শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান বাড়লেও কর্মজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি খৈয়াছড়া নামার বাজার এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত এক নারীকে কয়েকজন যুবক অশালীন ভাষায় উত্ত্যক্ত এবং প্রকাশ্যে অশালীন মন্তব্য ও প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রকাশ্যেই এ ধরনের আচরণ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
এদিকে একই এলাকায় কয়েকদিন আগে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনসহ পকেটে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে, তখন কর্মজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কতটা কার্যকর?
বিশেষ করে নারী কর্মীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় ইভটিজিং, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলে তা কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল, সিসিটিভি নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারী কর্মীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মজীবী মানুষেরা।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু কর্মসংস্থানের কেন্দ্র নয়, এটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এখানে কর্মরত প্রত্যেক মানুষের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।