চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থাকলেও রেলসেবায় দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষ। উপজেলার পাঁচটি রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা একমাত্র চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশনেও কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নেই।
মিরসরাই উপজেলায় থাকা পাঁচটি রেলস্টেশন হলো—
১. চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন
২. নিজামপুর রেলওয়ে স্টেশন
৩. বড়তাকিয়া রেলওয়ে স্টেশন
৪. মিরসরাই রেলওয়ে স্টেশন
৫. মস্তাননগর রেলওয়ে স্টেশন
এর মধ্যে নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মস্তাননগর স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এসব স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
চিনকি আস্তানা স্টেশনটি চালু থাকলেও সেখানে আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নেই। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্টেশনটিতে লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মিরসরাইয়ের বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে দূরের স্টেশন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে কয়েকটি স্টেশনের ভবন ও অবকাঠামো অযত্নে পড়ে থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও রেলওয়ের সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে। মিরসরাই স্টেশনের অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মিরসরাই বর্তমানে শিল্প, অর্থনীতি ও পর্যটনের দিক থেকে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিভিন্ন শিল্পকারখানা এবং পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে মানুষের যাতায়াতও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ স্টেশনগুলো পুনরায় চালু এবং চালু স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয়দের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বন্ধ স্টেশনগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে যাত্রীসেবা চালুর উদ্যোগ নেবে।
একই সঙ্গে রেলওয়ের জায়গা ও স্টেশনগুলোর সম্পত্তি সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।