দেশে খুন, ধর্ষণ, চুরি ও মাদকের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতা এবং আসামিদের বারবার জামিন পেয়ে যাওয়াকে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন অনেকে। এই অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “ক্রসফায়ার নয়, কঠোর আইন চাই” শীর্ষক আলোচনা ও জনমত জোরালো হয়ে উঠেছে।
নেটিজেনদের মতে, অপরাধ দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না। বরং আইনকে আরও কঠোর করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই দেশে অপরাধ প্রবণতা কমানোর একমাত্র মাধ্যম।
জনমতের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধ দমনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উঠে এসেছে:
খুন: অপরাধ প্রমাণিত হলে ১ মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির রায় কার্যকর করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ধর্ষণ: ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কোনো অবস্থাতেই আসামিকে জামিন না দেওয়া।
হত্যাচেষ্টা: অপরাধীর জন্য ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং জামিন অযোগ্য ধারার বিধান।
চুরি ও ছিনতাই: দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের আইন প্রণয়ন।
মাদক নির্মূল: মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং সেবনকারীদের ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ উভয় ক্ষেত্রে জামিন নামঞ্জুর করা।
সচেতন মহলের অভিমত, সঠিক আইন ও তা দ্রুত প্রয়োগ করা গেলে বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না। তবে এসব কঠোর আইন পাস ও বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিচার বিভাগের সংস্কার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।