সারাদেশে চলাচলকারী নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। এসব যান চলাচলে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত করা হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে ওই নোটিশটি উত্থাপন করেছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই খাতের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তাই কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপদ রাখতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে একটি বিধিমালা ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নতুন নীতিমালার আওতায় অটোরিকশাগুলোর জন্য রুট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে এবং মহাসড়ক বা প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এগুলো চলতে পারবে না। এছাড়া অতীতে একটি যানের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে ১০-২০টি গাড়ি চালানোর যে জালিয়াতি হতো, তা রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে গাড়ি শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ চুরি রোধে বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারিও বাড়ানো হবে।
এর আগে নোটিশ উত্থাপনকালে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু জানান, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় পাঁচ শতাংশ ব্যবহার করে। শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এর ফলে গ্রিডের ওপর চাপ পড়ার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
পাশাপাশি সস্তা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অব্যবস্থাপনা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে এবং ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশই অটোরিকশা দুর্ঘটনা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে গাড়িগুলো ঢালাওভাবে উচ্ছেদ বা ডাম্পিং না করে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।