বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় গত তিন মাসে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৪ জন এবং হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯ জন। এই দ্বিমুখী সংক্রমণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ৫ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা পরবর্তী সময়ে এডিস মশার তীব্র উপদ্রব এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকাগুলোতে মশা নিধনে ফগার মেশিনের ব্যবহার বা ওষুধ প্রয়োগ কার্যক্রম নিয়মিত হয় না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতেই থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন জানান, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালের পরামর্শ যথেষ্ট নয়; বরং দ্রুত মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে শিশুদের হামের টিকার আওতা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরি।