দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রান্তিক মানুষের রাজধানীমুখী নির্ভরতা। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য নিরুপায় হয়ে ঢাকায় ছুটতে হয়। এতে শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি রোগীদের স্বজনদেরও বাড়তি অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়।
এই কঠিন বাস্তবতায় চিকিৎসাসেবার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের সরকারি উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে এসব অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রস্তাবিত হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ক্যান্সারের রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ডে-কেয়ার বেড এবং আধুনিক প্যাট-সিটি (PET-CT) স্ক্যানের মতো বিশ্বমানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে শুধু স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোই বৃদ্ধি পাবে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। উদাহরণস্বরূপ, মাগুরা বা ঠাকুরগাঁওয়ের একজন ক্যান্সার রোগীকে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির জন্য আর ঢাকায় এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না; নিজের বিভাগীয় শহরেই মিলবে এই উন্নত সেবা। এর ফলে রোগীদের সময়, অর্থ ও অমানবিক দুর্ভোগের লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।