বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল পুনর্গঠন, পদায়ন এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের একাংশ এই পদায়নকে “রুচির দুর্ভিক্ষ” এবং “তৈলাক্ত বাঁশের রিলে রেস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় ত্যাগ ও যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত আনুগত্য ও তৈলাক্তকরণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি পদায়ন ও বিতর্কিত বিষয়:
রাশেদ খান: গণঅধিকার পরিষদ থেকে যুক্ত হওয়া রাশেদ খান স্থানীয় নির্বাচনে তৃতীয় হলেও তাঁকে তারেক রহমানের ‘রাজনৈতিক সহকারী’ (সচিব পদমর্যাদা) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডা. জাহিদুর রহমান: পেশায় চিকিৎসক ডা. জাহিদুর রহমানকে তথ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কৌশলের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপদেষ্টা পদে বসানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মীর শাহে আলম: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিজ সন্তান ও ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদ নামকরণ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
গিয়াস উদ্দিন মামুন: তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন মামুনের বিরুদ্ধে থাকা ২২টি মামলার মধ্যে ১৭টি থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় খালাস পাওয়া নিয়েও নেটদুনিয়ায় চর্চা চলছে।
উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন: শিক্ষা, শ্রম, স্বরাষ্ট্র ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পদায়ন এবং মুখপাত্রের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সচেতন মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য পাপিয়ার কড়া মন্তব্যও নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, বঞ্চিত তৃণমূল কর্মীদের মূল বক্তব্য—দলে অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতার অভাব না থাকা সত্ত্বেও পদায়নের ক্ষেত্রে তেলের পাল্লাই ভারী হচ্ছে।
বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল পুনর্গঠনের কাজ চলমান থাকলেও উদ্ভূত এসব বিতর্ক ও সমালোচনার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বা জ্যেষ্ঠ কোনো নীতিনির্ধারকের থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।