বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদারকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন, অবস্থান কর্মসূচি ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে মাঠে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা বিতর্কিত ওই সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই এ.এ. বারী হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান। তবে অবসরে যাওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুনরায় এক বছরের জন্য বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আদেশের পরই মাদরাসায় চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
মাদরাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলামসহ আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক এই অধ্যক্ষের দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অনিয়ম হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা তাঁকে আর কোনোভাবেই গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন।
অন্যদিকে, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপত্রকে ভিত্তি ধরে এ.এ. বারী হাওলাদার পুনরায় দায়িত্ব বুঝে নিতে অটল অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে ভয় পেয়ে দায়িত্ব পালনে অনৈতিক বাধা সৃষ্টি করছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত এবং পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে বিলম্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।