স্মার্টফোন এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, বিনোদন ও ব্যবসার চালিকাশক্তি। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে মোবাইল হাতে নিলেই সোশ্যাল মিডিয়া, অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে দেখা মিলছে অনলাইন জুয়ার চাকচিক্যময় প্রলোভন। খেলা দেখা, ভিডিও দেখা বা স্ক্রল করার সময় প্রতিনিয়ত হাজির হচ্ছে দ্রুত টাকা উপার্জনের এ সমস্ত অনৈতিক পথ।
চকচকে গ্রাফিক্স, সহজে টাকা জেতার প্রলোভন ও মনকাড়া অফারের মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে উপস্থাপন করা হচ্ছে বিনোদন হিসেবে। ফলে পরিবার যেখানে সন্তানকে সততা ও পরিশ্রমের শিক্ষা দিচ্ছে, সেখানে মোবাইলের স্ক্রিন তাদের শেখাচ্ছে রাতারাতি অলস উপায়ে ভাগ্য বদলের মানসিকতা।
অনলাইন জুয়া কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং যুবসমাজকে পরিশ্রমবিমুখ করে সামাজিক ও পারিবারিক সংকট তৈরি করছে। বিজ্ঞাপনের এই অবাধ প্রবেশাধিকার বন্ধে কেবল ওয়েবসাইট ব্লক করাই যথেষ্ট নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিজ্ঞাপন নীতি আধুনিকীকরণ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানদের ডিজিটাল সুরক্ষায় অভিভাবকীয় সচেতনতা বাড়াতে হবে। জুয়াকে বিনোদন নয়, সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক ও নৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।