রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে মামলার রহস্য। দীর্ঘ এই সময়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে রেকর্ড ১২৮ বার।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতের শেষভাগে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে তাঁদের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ সেই বাসায় উপস্থিত ছিল। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এক যুগের বেশি সময়ে মামলার তদন্তই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ, ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), র্যাব এবং বর্তমানে পিবিআই-এর নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল ২০২৬ সালের আগস্টে, যা আবারও পিছিয়ে আগামী ২৭ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উচ্চ আদালতও অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছিলেন যে, ১২ বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়া ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সঙ্গে উপহাসের মতো।
বাবা-মাকে হারানোর পর নানি ও মামার আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা মেঘ শৈশব ও কৈশোর পেরিয়ে সম্প্রতি এ লেভেল সম্পন্ন করেছে। তবে একটি সন্তান ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সম্পত্তির চেয়ে বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ডের সত্য জানা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবিটিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।