মাগুরার উর্বর মাটিতে সুপার ফুডখ্যাত মেক্সিকান ফল ‘অ্যাভোকাডো’ চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. নাসির হোসেন (৪০)। তাঁর এই সাফল্য দেশের কৃষি অর্থনীতিতে উচ্চমূল্যের ফসল চাষের এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।
উদ্যোক্তা নাসির হোসেন জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে ঝিনাইদহের একটি নার্সারি থেকে প্রতি চারা ১ হাজার ২০০ টাকা দরে ১২টি অ্যাভোকাডো চারা এনে রোপণ করেন। নিবিড় পরিচর্যায় দুই বছরের মাথায় ফল আসতে শুরু করে এবং চলতি ২০২৬ মৌসুমে গাছগুলোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি অ্যাভোকাডোর ওজন ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বাগান থেকে পাইকারি ৫০০ টাকা কেজি দরে ২৪০ কেজি ফল বিক্রি করে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। অবশিষ্ট ফল থেকে আরও ৪০ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।
অ্যাভোকাডোর এমন সাফল্য দেখে নাসির হোসেন নতুন করে ৬ বিঘা জমিতে আরও ১৫০টি চারা রোপণ করে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, নাসির হোসেনের ‘নাসির এগ্রো ফার্ম’-এর অধীনে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, কুলসহ নানা ফলের সুবিশাল বাগান রয়েছে, যা জেলার সবচেয়ে বড় ফল চাষ প্রকল্প এবং এতে ৩৫-৪০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নূর-এ-নবী বলেন, “অ্যাভোকাডো একটি উচ্চমূল্যের পুষ্টিকর ফল। মাগুরার মাটিতে নাসিরের সফলতা অন্যান্য কৃষকদেরও এ ধরনের লাভজনক ও আধুনিক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করবে।”