হিন্দু আইন (দায়ভাগা) অনুযায়ী মৃত ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন ‘রিভার্সনার’ বা পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবে না মর্মে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার চেয়ে দায়ের করা এক দেওয়ানি রিভিশন মামলায় জারি করা রুল খারিজ করে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য’ শীর্ষক মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া পূর্বের রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে দেওয়া এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার পটভূমি:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার অধিবাসী রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে তাঁর ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১.৩৫ একর জমি ক্রয় করেন। পরে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাস এবং তাঁর বাবা রামকান্ত বিশ্বাস উভয়ই মারা যান। সতীশ চন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী বালা জীবিত থাকাকালে ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে সতীশের বোন শৌল বালা দাস উক্ত বিক্রয় দলিলকে জাল ও বেআইনি দাবি করে পটিয়ার দেওয়ানি আদালতে সম্পত্তির মালিকানা চেয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে ২০০্য সালের জুনে পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতেও আপিল খারিজ হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করা হয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম। রায়ে দায়ভাগা স্কুল অব হিন্দু আইনের অধীনে বিধবার অধিকার ও উত্তরাধিকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হাইকোর্ট বলেন:
স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তিতে পূর্ণ স্বত্ব বা অধিকার লাভ করেন।
বিধবা নারী যদি এই সম্পত্তি হস্তান্তরিত করেন, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সকলের থাকে না।
ওই হস্তান্তরের আইনি বৈধতা নিয়ে কেবল তিনিই প্রশ্ন তুলতে বা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন, যিনি বিধবার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত আইনি উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার)।
ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের কোনো আইনি উত্তরাধিকার বা রিভার্সনার হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি—এই অজুহাতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি তা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করতে পারবেন না।
আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।