ছাত্রজীবনের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌর চেয়ারম্যান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে দলের ক্রান্তিকালের সফল কান্ডারী—দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক শেষে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও দলীয় সিদ্ধান্ত রক্ষার্থে ইতিমধ্যেই বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আগামী ২০ আগস্ট সংসদ ভবনে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাবা মির্জা রুহুল আমিনের রাজনৈতিক আদর্শে বেড়ে ওঠা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিলেও ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি—২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি ও সিভিল এভিয়েশন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তারেক রহমানের নির্বাসনকালীন সময়ে দেশে দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে সংগঠিত রাখতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে অসংখ্য মামলা ও ছয়বারেরও বেশি কারাবরণের মধ্য দিয়ে নিজেকে রাজপথের আপসহীন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থাকার পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
২০২৬ সালে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান এবং এবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেন।