কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিরোধপূর্ণ পৈতৃক জমি মাপতে গিয়ে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় ভবতরণ রায় ও নারায়ণ চন্দ্র রায় নামের দুজন আহত হয়েছেন। আহত ভবতরণ রায়কে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং নারায়ণ চন্দ্র রায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর ৫ জনকে অভিযুক্ত করে রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শম্ভু রাম বর্মন। অভিযুক্তরা হলেন কিশামত পুনকর গ্রামের কৃষ্ণপদ রায় (৫৫), বুলবুলি রানী স্বপ্না (৬৪), রমেশ চন্দ্র রায় (৬৫), বুলেট চন্দ্র রায় (৪০) ও হিমু চন্দ্র রায় (২৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশামত পুনকর মৌজায় মানিক চন্দ্র দুলালের পৈতৃক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৬ আগস্ট সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি মাপার জন্য আমিন নিয়ে নারায়ণ চন্দ্র রায়ের উঠানে অবস্থান করছিলেন শম্ভু রাম বর্মনসহ কয়েকজন। এ সময় অভিযুক্তরা জমি মাপা বন্ধ করতে বলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে শম্ভুর বাবা ভবতরণ রায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। কৃষ্ণপদ রায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ভবতরণ রায়ের ডান হাতের দুটি আঙুল জখম হয় এবং বুলবুলি রানী স্বপ্না তাঁকে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভবতরণ রায়কে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শম্ভু রাম বর্মন ও তাঁর কাকা নারায়ণ চন্দ্র রায়কেও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগকারী শম্ভু রাম বর্মনের দাবি, অভিযুক্তরা এখনো তাঁদের প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।