জনসেবা বা মানবকল্যাণে বড় অর্থবিত্তের চেয়ে যে বড় মনের প্রয়োজন— তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁর পত্নীতলার ভ্যানচালক বেলাল হোসেন। নিজের সামান্য সামর্থ্যের মধ্যেই নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক ও জনহিতকর কাজ করে এলাকায় অনন্য এক পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) সরেজমিনে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার ৭ নং পাটিচড়া ইউনিয়নের অশোকানাই (রসকানাই) গ্রামের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক কাজে যুক্ত। সম্প্রতি আমন ধান রোপণের পূর্ণ মৌসুমেও তাকে তীব্র রোদে কাজ করা ধান রোপণকারী শ্রমিক ভাইদের মাঝে নাস্তা ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পরিবেশন করতে দেখা গেছে। এর আগেও চৈত্র মাসে ইরি ধান কাটার মৌসুমে তিনি শ্রমিকদের মাঝে স্যালাইন, শরবত ও শুকনো খাবার বিতরণ করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন।
বেলালের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজস্ব উদ্যোগে শহর থেকে বড় বড় চিকিৎসক এনে এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া রসকানাই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিন দেওয়া, গ্রামের অবহেলিত কাঁচা রাস্তায় নিজে মাটি কেটে চলাচলের উপযোগী করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে বিনা ভাড়ায় ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজও তিনি করে যাচ্ছেন।
জনকল্যাণকর কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যানচালক বেলাল হোসেন সাধারণ ভাষায় বলেন, “মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে পারলে নিজেকে কৃতার্থ মনে হয়, মনে তৃপ্তি পাই।”
তবে বেলালের এই মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি মেম্বার (ইউপি সদস্য) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি নিজস্ব পাড়া ও মহল্লায় এই সামাজিক কাজগুলো করছেন।
রাজনৈতিক গুঞ্জন বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, একজন অতি সাধারণ ভ্যানচালকের এমন ধারাবাহিক মানবিক প্রয়াসকে অত্যন্ত উঁচুমার্গে দেখছেন খেটে খাওয়া সাধারণ ও মেহনতি মানুষ। স্থানীয়দের মতে, যেখানে জনপ্রতিনিধিরাও অনেক সময় জনগণের সেবায় পিছিয়ে থাকেন, সেখানে একজন ভ্যানচালক নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন— তা সমাজ ও দেশজুড়ে এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।