দুধ ও চিনির পর এবার দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলের নমুনায়ও মারাত্মক ক্ষতিকর ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর মে ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা সবকটি নমুনাতেই (১০০%) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে প্রায় ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৮২.৫ শতাংশই ছিল সূক্ষ্ম তন্তু (ফাইবার) আকৃতির।
সয়াবিন তেলে শনাক্ত হওয়া ৬ ধরনের প্লাস্টিক পলিমার:
১. লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE): প্লাস্টিকের মোড়ক ও প্যাকেজিং সামগ্রী থেকে এই কণা তেলের সঙ্গে মিশতে পারে।
২. হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE): প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান ও তেলের ড্রাম তৈরিতে ব্যবহৃত এই পলিমার কণা সংরক্ষণের সময় তেলে প্রবেশ করতে পারে।
৩. পলিপ্রোপিলিন (PP): খাবারের পাত্র, পাইপ ও ঢাকনা থেকে উৎপাদনের সময় তেলে ছড়ায়।
৪. পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PET): ভোজ্যতেলের স্বচ্ছ বোতল থেকে বোতলজাত তেলে এই পলিমার প্রবেশ করছে।
৫. পলিইউরেথেন (PU): কারখানার ফিল্টার, কোটিং ও যন্ত্রাংশ থেকে মেশা এই পলিমার ভোজ্যতেলে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে।
৬. নাইলন (পলিআমাইড): শিল্পযন্ত্রের অংশ ও সিনথেটিক ফিল্টার থেকে মেশা নাইলনের উপস্থিতি ভোজ্যতেলে এবারই প্রথম শনাক্ত করার দাবি গবেষকদের।
গবেষকেরা জানান, ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলের নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি ছিল। উৎপাদন, পরিশোধন, ফিল্টারিং, পরিবহন কিংবা প্যাকেজিংয়ের যেকোনো ধাপে এসব কণা যুক্ত হয়ে থাকতে পারে।
বিইউপি’র গবেষকেরা খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়মিত তদারকি এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের জোর সুপারিশ করেছেন।