নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ও আড়ানগর ইউনিয়ন জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি— ‘ঘুকসির বিল’ (স্থানীয়ভাবে ঘুপসী বিল নামেও পরিচিত)। বর্ষা মৌসুমে বিলটি পানিতে টৈটুম্বুর হয়ে রূপ নেয় সিলেটের রাতারগুলের মতো এক মায়াবী জলাভূমিতে।
বর্ষা এলেই থইথই পানি, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, নৌকার হাওয়ায় ভেসে চলা আর নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে বিলের পূর্ব পাড়ে চক্ চান্দিরা মৌজায় পাল বংশীয় রাজা চান্দিলালের খনন করা ৩৬৫টি পুকুর বর্ষায় মূল বিলের পানিতে একাকার হয়ে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য তৈরি করে।
ঘুকসির বিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানই নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম উৎস। বর্ষায় দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা, আর শীতকালে পানি কমে গেলে বিস্তীর্ণ জমিতে চলে ফসলের আবাদ।
তবে সময়ের সাথে সাথে অবহেলা, অপরিকল্পিত দখল ও জলপ্রবাহের বাধার কারণে বিলটির সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের দাবি— অবক্ষয় রোধ করে সুপরিকল্পিতভাবে এলাকাটি সংরক্ষণ করা গেলে ঘুকসির বিল হতে পারে উত্তরবঙ্গের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ‘ইকো-ট্যুরিজম’ স্পট।