দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আজ বুধবার (৩ জুন) রাতে কারাগারের সব আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তিনি কারামুক্ত হন।
কারা অধিদফতরের সহকারী কারামহাপরিদর্শক বা এআইজি (মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনে মুক্তির বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন।
কাগজপত্র যাচাই শেষে মুক্তি:
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট ১২টি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি আদালত এই সবগুলো মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এআইজি (মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, ১২টি মামলায় সাবেক মেয়রের আইনি জামিনের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ও আদেশের কপি কাশিমপুর কারাগারে এসে পৌঁছায়। কারা কর্তৃপক্ষ সব নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখে যে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আটকাদেশ বা নতুন কোনো ওয়ারেন্ট নেই। এরপর আইনি নিয়ম মেনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে সম্পূর্ণ জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। কারামুক্তির পর কারা ফটকে তাঁর আইনজীবী এবং বেশ কয়েকজন সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ ক্যারিয়ার:
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেশের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। এরপর তিনি টানা তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতি, উন্নয়ন ও জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।