দেশের সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব
সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে যাতে কেউ ভোগান্তিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা দীর্ঘসূত্রতা সহ্য করা হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশ গমন, উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। সময়মতো এই সেবা না পাওয়া একজন নাগরিকের ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
হয়রানি রোধে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে:
ডিজিটালাইজেশন: অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (PCC) সিস্টেমকে আরও উন্নত করা হচ্ছে যাতে ঘরে বসেই আবেদন এবং ট্র্যাকিং করা যায়।
নির্দিষ্ট সময়সীমা: আবেদনের পর তদন্ত সম্পন্ন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদানের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে।
তদারকি জোরদার: তদন্তের নামে মাঠ পর্যায়ে কোনো পুলিশ সদস্য যাতে অনৈতিক লেনদেন বা হয়রানি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ কেন্দ্র: কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর জন্য হটলাইন ও বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, যদি এই নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রতি মাসে কতগুলো আবেদন জমা পড়েছে এবং কতগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তার একটি নিয়মিত রিপোর্ট সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিতে হবে।