বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রয়োজনে রক্তের ব্যবস্থা করতে না পেরে বিপাকে পড়েন এক গর্ভবতী রোগীর স্বজনরা। এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজেই রক্তদান করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মাহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন (Incomplete Abortion) নিয়ে ওই গর্ভবতী নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনেক কম পাওয়া যায়। পাশাপাশি রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। রোগীর রক্তের গ্রুপ ছিল এ পজিটিভ (A+)।
এ অবস্থায় রোগীর স্বজনদের দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু পরদিন সকাল পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা রক্ত সংগ্রহ করতে পারেননি। বিষয়টি জানতে পেরে রোগীর জরুরি অবস্থার কথা বিবেচনা করে নিজেই রক্তদানের সিদ্ধান্ত নেন ডা. মাহিদুল ইসলাম।
হাসপাতালে তখন বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন থাকায় দায়িত্ব ছেড়ে তাৎক্ষণিকভাবে বের হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে নিজের কক্ষে লোক পাঠিয়ে রক্তের ক্রসম্যাচিংয়ের ব্যবস্থা করেন। এরপর দায়িত্বের ফাঁকে নিজেই রোগীকে রক্তদান করেন।
এ বিষয়ে রোগীর স্বজনরা কালান্তর নিউজকে বলেন, “অনেক খুঁজেও আমরা রক্তের ব্যবস্থা করতে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক নিজেই আমাদের রোগীকে রক্ত দিয়েছেন। আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
ডা. মাহিদুল ইসলাম কালান্তর নিউজকে বলেন, “এবার রোগীর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে আমার রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় দ্রুত রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে অন্য কোনো রক্তের গ্রুপের রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।”
এ কারণে উজিরপুর উপজেলায় দায়িত্বশীল ও সক্রিয় কোনো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করলে দ্রুত রক্তদাতার ব্যবস্থা করতে পারে, এমন সংগঠন বা স্বেচ্ছাসেবী দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের সমন্বয়ে একটি সুসংগঠিত রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে জরুরি মুহূর্তে রক্তের অভাবে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে উজিরপুরের সচেতন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ডা. মাহিদুল ইসলাম।