একসময় শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে গুলিবিদ্ধ মরদেহ, ঘটছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও হত্যার ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে শুধু গুলিতে প্রাণ গেছে ২৬ জনের।
রূপসায় নদী থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার
গত সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার সিংহের চর এলাকায় আঠারোবেকি নদী থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন খুলনা নগরীর আলোচিত অপরাধী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সদস্য হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও রেজাউল করিম ওরফে আলামিন (৩০)।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, নিহত দুজনের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে গত দুই দিনে নগরীর লবণচরা এলাকায় শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) এবং রায়েরমহল এলাকায় তাঁতী দলের নেতা হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
১০ মাসে ৭৫ হত্যাকাণ্ড
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট ৭৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগর এলাকায় ৩৭টি এবং জেলায় ৩৮টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৬ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ১২ দিনেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সাতজন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আটটি অস্ত্রধারী গ্রুপ সক্রিয় থাকার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে খুলনায় আটটি অস্ত্রধারী গ্রুপের সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রুপগুলো হলো—গ্রেনেড বাবু ওরফে রনি চৌধুরীর বি কোম্পানি, শেখ পলাশ গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমায়ুন কবিরের হুমা বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, ট্যাংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ ও শাকিল গ্রুপ।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এসব গ্রুপের মধ্যে চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখল, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এসব বিরোধের জেরে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নগরবাসী
একটির পর একটি হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার এবং অপরাধী গ্রুপগুলোর তৎপরতার অভিযোগে খুলনা মহানগর ও জেলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।