খুলনা-দৌলতপুরের ফুটপাত এখন আর পথচারীর নয়, দখলদারদের বাপ-দাদার সম্পত্তি! খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) দিনে ভাঙে, দখলদাররা রাতে গড়ে।তাও আগের চেয়ে আরো বেশি জায়গা নিয়ে। এমনই লজ্জাজনক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে দৌলতপুর বাজারে।
সরেজমিন তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর থেকে কেসিসি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে শিববাড়ী থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত ৭টি পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। দৌলতপুরের ফুটপাত জুড়ে অবৈধভাবে তৈরি লোহার সিঁড়িগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু বিস্ময়কর হলো, অভিযানের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গায়, একই কায়দায় আগের চেয়ে আরো মজবুত করে নতুন লোহার সিঁড়ি বসিয়ে দিয়েছে দখলদাররা।
আপনার পাঠানো দুটি ছবিতে সেই প্রমাণ স্পষ্ট – একটি ‘কাচ্চি নবাব’ আর একটি ‘রাজ্য মিঠাই’ নামক দোকানের সামনে পুরো ফুটপাত আটকে দিয়ে বিশাল আকারের লোহার সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। ফুটপাতে জুতা, ব্যানার, গ্যাসের চুলা রেখে পথচারীদের বাধ্য করা হচ্ছে মূল সড়কে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে।
এ যেন চোর-পুলিশ খেলা!
এই ঘটনা নতুন নয়। দৈনিক যুগান্তর ও ডেইলি স্টারের রিপোর্ট বলছে, খুলনা শহরের ৮৩৩ কোটি টাকার ড্রেনেজ প্রকল্পের প্রায় ৭০ ভাগ টাকা খরচ করে ১৫০ কিলোমিটার টাইলসের ফুটপাত তৈরি করা হয়েছিল পথচারীদের জন্য। কিন্তু তার ৫০-৬০ কিলোমিটারই এখন অবৈধ দখলে।
ডাকবাংলা মোড় থেকে পিকচার প্যালেস, ক্লে রোড, সদর থানা, খালিশপুর চিত্রালী বাজার থেকে দৌলতপুর বাজার – সবখানে একই চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফুটপাত দখলদারদের পিছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দৈনিক ৩০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে একটি গোষ্ঠী। প্রশাসন আসার আগেই খবর চলে যায়, অভিযান শেষ হলেই আবার দখল। কালান্তর নিউজে এর আগেও প্রকাশিত হয়েছিল “উচ্ছেদের ১ ঘণ্টা পরেই দখল! প্রশাসনের অভিযান কি তাহলে তামাশা?” শীর্ষক রিপোর্ট।
প্রশ্ন ১: খুঁটির জোর কোথায়?
যারা প্রকাশ্য দিবালোকে কেসিসির ভাঙা সিঁড়ি কয়েক ঘণ্টায় দ্বিগুণ জায়গা নিয়ে গড়তে পারে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়? কেসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন নিজেই বলেছেন, স্থায়ী সাফল্যের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। কিন্তু সমন্বয় কোথায়?
প্রশ্ন ২: প্রশাসক মঞ্জু সাহেব কি কানা না জিম্মি?
নগরবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন – কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু কি এসব দেখতে পান না, নাকি দেখেও তিনি কোনো অদৃশ্য শক্তির কাছে জিম্মি? তিনি নিজে বলেছিলেন, “কোটি টাকা খরচ করে ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে নগরবাসীর হাঁটার জন্য। এই ফুটপাত দখল করে আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না”।
কথা ও কাজের মিল কোথায়? প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে দৌলতপুরে উল্টো চিত্র। ১১ সদস্যের হকার পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফুটপাত দখল করে স্থায়ী সিঁড়ি বানানো কোনো হকারের কাজ নয়, এটি প্রভাবশালী দোকান মালিকদের কাজ।
জনগণ জানতে চায়, এই দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা হবে কবে? শুধু ভাঙা-গড়ার নাটক না করে স্থায়ী মনিটরিং টিম, সিসিটিভি ও কঠোর জরিমানা কবে হবে? তা না হলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ৯০ মিনিটের উচ্ছেদ নাটক বন্ধ করুন।