আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। আগামীকাল বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া আগামী ৪ জুলাই সারা দেশের সকল জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি। আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ নেতাদের উদ্বেগ: সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যমান বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে দেশজুড়ে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অপ্রীতিকর উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটছে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১১ দল সোচ্চার হলে তাদের ওপর ক্ষমতাসীন মহলের একাংশের লোকজন হামলা চালাচ্ছে। রাজধানীর বিজয়নগরের সমাবেশ থেকে এই হামলা ও খুনের বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হবে।
৪ জুলাইয়ের জেলাভিত্তিক কর্মসূচি: আগামী ৪ জুলাইয়ের জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক জানান, জেলাভিত্তিক সমাবেশে গুম ও খুনের বিচারের দাবির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ ও দাবি তুলে ধরা হবে। তিনি দেশের সামগ্রিক নৃশংসতা, সরকারের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জোটের অন্যান্য শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।