ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সড়ক সংস্কারের দাবিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। সড়কের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে মাইকিং করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওই মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার নূরপুর-হরিপুর সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে মাইকিং করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মলুদ। তিনি পেশায় একজন মাইক ব্যবসায়ী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মো. মলুদকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে শোনা যায়, গোকর্ণ ইউনিয়নের মানুষ নূরপুর থেকে হরিপুর পর্যন্ত চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃষ্টি হলে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, নূরপুর থেকে গোকর্ণ স্কুলে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে মো. মলুদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী জানান, তারা সাধারণ মানুষ। সড়কের দুরবস্থা দেখে তার স্বামী নিজ উদ্যোগেই স্বেচ্ছায় মাইকিং করেছেন।
গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন বলেন, মাইকিংয়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও কষ্ট জমে ছিল, মাইকিংয়ের মাধ্যমে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় বিষয়টি ভালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরীন বলেন, সড়কটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন মহলে কথা বলেছেন। তবে নানা জটিলতার কারণে ঠিকাদার সময়মতো কাজ করতে পারছেন না।
এলজিইডি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সড়কটির নির্মাণকাজে মোট কত টাকা ব্যয় হবে এবং নির্দিষ্ট কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।