লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মাদক কারবারের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার জেরে এক যুবককে অপহরণ, নির্মম নির্যাতন, চাঁদা আদায় এবং বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নাজমুল হক বাদী হয়ে স্থানীয় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন (২০২৬) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে হাতীবান্ধার উত্তর জাওড়ানী এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানের পর থেকেই মাদক কারবারিরা তথ্যদাতা হিসেবে নাজমুল হককে সন্দেহ করতে শুরু করে এবং তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুন রাতে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে নাজমুলকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়; গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজমুলের বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নাজমুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় নথিপত্রও অভিযোগের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নাজমুল হক হাতীবান্ধা থানায় যে ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাঁরা হলেন— মো. পলাশ (২৩), মো. আল আমিন (২৫), মো. নিরব (২২), মো. শাকিরুল (২৪), মো. জাকিরুল (২৮), মো. রুবেল (২৭), মো. সোহাগ (২৬), মো. সবুজ (২২), মো. সাগর (২৪) ও মো. আকাশ (২৪)।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলি বলেন, “আমরা এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”