রাজশাহী নগরের শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় এক রাজনৈতিক নেতার ভাড়া নেওয়া বাসায় ফয়সাল বাঁধন (৩০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাসাটিতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ককটেল ও বিস্ফোরকসদৃশ উপাদান উদ্ধার করেছে।
গুলিবিদ্ধ ফয়সাল বাঁধন নগরের সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর সাথে অংশ নিতেন।
অস্ত্রোপচার ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা: ঘটনার পর ফয়সাল বাঁধনকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, যুবকের পেটে নাভির সামান্য ওপরে গুলি লেগেছে। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে আনা হলে দ্রুত সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া গুলিটি পিস্তলের এবং বর্তমানে আহত যুবক শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার: গুলির খবর পেয়ে শাহমখদুম থানা পুলিশ এবং সিআইডির ক্রাইম সিন সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ জানায়, ওই কক্ষ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি, গুলির খোসা, ককটেল সদৃশ একটি বস্তু এবং কিছু বিস্ফোরকসদৃশ উপাদান জব্দ করা হয়েছে।
ভবন ও বাসার মালিকানা: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার ওই পাঁচতলা ভবনটির মালিক রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি সাঈদ আল মারজুখের বাবা। ভবনের নির্মাণাধীন পঞ্চম তলার একটি ব্যবহার উপযোগী কক্ষ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক ভাড়া নিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। গুলির ঘটনার পর মীর তারেকসহ উপস্থিত অন্যরা স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে সাঈদ আল মারজুখ এবং মীর তারেকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি, তদন্তে পুলিশ:
ফয়সাল বাঁধন কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বাসাটি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা এমন কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাঁর জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় শাহমখদুম থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।