পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নতুন নীতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ৩ নারী ও ৬ শিশুসহ মোট ১২ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মুর্শিদাবাদ ও মালদহের নবনির্মিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই নির্দেশনার পরই এই প্রথম বড় ধরনের আটকের ঘটনা ঘটল।
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে দফায় দফায় অভিযান:
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৫ মে) মালদহের গাজোল এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ৯ জন বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে। আপাতত তাঁদের মালদহের ইংরেজবাজার হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদ এলাকা থেকেও সন্দেহভাজন আরও ৩ জন বাংলাদেশিকে আটক করার খবর পাওয়া যায়। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আটকের পর তাঁদের লালগোলার ‘পদ্মা ভবন’-এর তিন তলায় চালু হওয়া হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। তবে আটককৃতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় বা অন্য কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।
প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার প্রস্তুতি:
পশ্চিমবঙ্গের জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, আটককৃতরা প্রাথমিকভাবে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশের (বাংলাদেশ) সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়ের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সেন্টারগুলোতে রাখা হবে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে ধীরে ধীরে তাঁদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট (স্বদেশে ফেরত) করার ব্যবস্থা করা হবে।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার সংক্রান্ত এই বিশেষ নির্দেশিকা কার্যকর করতে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের পর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।