গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছরের এক তৃতীয় শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে দু দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাঙ্গালীয়া মধ্যপাড়া গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত হানিফ দেওয়ান হানিফা (৪০) এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে ওই গ্রামের মজিদ দেওয়ানের ছেলে।
নির্যাতিত ওই শিশু স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং পেশায় অটোরিকশা চালক আসাব উদ্দিন দেওয়ানের কন্যা।
ভিকটিমের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা পেশায় একজন দর্জি। কিছুদিন পূর্বে অভিযুক্ত হানিফার স্ত্রী নাজনীন আক্তারের কিছু সেলাই করা জামাকাপড় দেওয়ার জন্য ওই শিশুকে হানিফার বাড়িতে পাঠানো হয়। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে হানিফা শিশুটিকে জোরপূর্বক তার শয়নকক্ষে নিয়ে যায় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথম দফায় ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোর করে শিশুটির হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, গত চার দিন পূর্বেও একই কায়দায় ওই শিশুকে পুনরায় ধর্ষণ করে হানিফা।
পরবর্তীতে দিন দিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে গত সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) রাতে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১৩)।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভিকটিমের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”