নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় আপন দুলাভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে ১৩ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বাট্টা (ভাটিপাড়া) এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি মহল জোর প্রচেষ্টা চালালেও সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কেন্দুয়া থানাধীন মোজাফফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামের মোঃ বাচ্চু মিয়ার ১৩ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা একই থানার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা মাইজপাড়া গ্রামে তার আপন দুলাভাই মোঃ রিপন মিয়ার বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরীটি বাট্টা (ভাটিপাড়া) নামক স্থানে পৌঁছালে, পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা স্থানীয় মৃত মন্নাফ হোসেনের ছেলে অভিযুক্ত মোঃ মতি মিয়া (৫৫) তাকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে। পরে সবার অগোচরে রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:
একটি ১৩ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য তারা দফায় দফায় সালিশ-বৈঠকের আলোচনা করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভ ও ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছিল। এলাকার সচেতন মানুষের মতে, ধর্ষণের মতো একটি জঘন্য ফৌজদারি অপরাধকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
থানায় মামলা ও পুলিশের তৎপরতা:
ধর্ষকদের সহযোগীদের সব ভয়ভীতি ও সামাজিক লোকলজ্জার কথা উপেক্ষা করে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাতে ভিকটিমের বাবা নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত মতি মিয়াকে একমাত্র আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, “দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে ইতিমধ্যেই ভিকটিমকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সময়ের ভেতরেই শেষ করা হবে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী মতি মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”
নৃশংস এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।