কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দক্ষিণমোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সম্ভাবনাময় কিশোর অপ্রতিমের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টার দিকে দক্ষিণমোড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে পুরো কুমিল্লাজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ এবং গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বুকফাটা উদ্বেগের বিষয় হলো— গতকালই আমাদের পোর্টালের পক্ষ থেকে এই কিশোরের নিখোঁজ থাকার আকুল সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয়েছিল। অথচ ঠিক তার পরের দিনই উদ্ধার হলো তার চিরনিদ্রায় শায়িত দেহ! নিখোঁজ সংবাদ থেকে সরাসরি লাশের মিছিলে রূপ নেওয়া এই স্বল্প সময়ের ব্যবধান সমাজের চরম অবক্ষয়, নৈতিকতার চরম পতন এবং অপরাধের ভয়ংকর রূপকে নির্মমভাবে উন্মোচন করেছে।
নিহত কিশোরের মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক মা নাহিদা নাহিদ বিলাপ করতে করতে বুকফাটা আর্তনাদে বলেন, “শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য আমাদের ছেলেটাকে মেরে ফেললি, এইরকম ৯০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি আমরা তো দিতাম!” একটি আধুনিক স্মার্টফোনের মতো বস্তুগত মোহের কাছে মানুষের অমূল্য জীবনের দাম আজ কতটা তুচ্ছ ও সস্তা হয়ে গেছে, একজন মায়ের এই বুকফাটা আর্তনাদ তারই এক রক্তক্ষয়ী দলিল।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, প্রিয় সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে উদ্ধারে হন্যে হয়ে চারপাশ খোঁজাখুঁজি করছিলেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মম এই অপরাধ চক্র কোনো ধরনের অনুকম্পা বা আইনের তোয়াক্কা না করে এক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের পর তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সচেতন মহল ও বুদ্ধিজীবী সমাজ মনে করছে, কিশোর গ্যাং ও লোভী অপরাধী চক্রের এই বেপরোয়া দৌরাত্ম্য এখনই কঠোর হাতে দমন করা না হলে সমাজ আরও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়বে।
এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সাধারণ এলাকাবাসি।