আসন্ন ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ ছুটি উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বাসের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সিট পাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিযোগিতা। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে আটটায় ক্যাম্পাস থেকে দেশের সাতটি বিভাগের উদ্দেশ্যে মোট ৯টি বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, তার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার পর থেকেই বিভিন্ন মেস, হল ও বাসা থেকে ব্যাগপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে লাইনে দাঁড়াতে থাকেন। অনেককে দেখা যায় বাসের সিট ধরে রাখতে জানালার পাশে বা গেটে ব্যাগ রেখে অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকেই বন্ধুদের সাথে গল্প-আড্ডায় পুরো রাত ক্যাম্পাসে কাটানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক, শহীদ মিনার, রফিক ভবন ও একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসের সামনে মাটিতে বসেই আড্ডায় মেতেছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ ফোনে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ বা চাদর বিছিয়ে শুয়ে ভোরের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাড়ি ফেরার আনন্দ ও উচ্ছ্বাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত আসন পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে এক ধরনের উৎকণ্ঠাও দেখা গেছে তাদের চোখেমুখে। শিক্ষার্থীদের দাবি, আগেভাগে না এলে বাসে বসার মতো সিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও দুর্ভোগ:
শিক্ষার্থীরা জানান, দূরপাল্লার যাত্রায় বাসের সংখ্যা ও আসনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর বাড়ি ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে, তাদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রকিব হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে করে গ্রামের বাড়ি ফেরার অনুভূতিটা সত্যিই অন্য রকম। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই বাসে বাড়ি ফিরছি। আগের দুবার সিট পেলেও এবার বসতে পারব কি না এখনো নিশ্চিত নই। তারপরও সবার সাথে একসাথে ফেরার যে আনন্দ, তার জন্য এই বাসেই যেতে চাই।”
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ আদিল তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দাঁড়িয়ে যেতে কিছুটা কষ্ট হলেও বন্ধুদের আড্ডা, হাসি-মজা আর একসাথে বাড়ি ফেরার এই স্মৃতিগুলোই তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। তবে প্রশাসন যদি বাসের সংখ্যা আরেকটু বাড়িয়ে দিত, তাহলে সবার যাত্রাটা আরও অনেক বেশি আরামদায়ক ও চমৎকার হতো।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের সময় সবারই বাড়ি যাওয়ার তাড়া থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকায় সিট ধরার জন্য আমাদের এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বেশ কষ্টদায়ক।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীতে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।