রাজশাহীর চারঘাটে ৭ বছরের এক শিশু কন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম দেব চন্দ্র দাস (২২)। সে চারঘাট উপজেলার আরজিসাদীপুর এলাকার বাসিন্দা।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকালে রাজশাহী র্যাব-৫ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানী কমান্ডার মেজর মনজুরুল কবির সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার অভিযুক্ত দেব চন্দ্র দাস তার প্রতিবেশী ওই শিশুকে টিভি দেখানো ও খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। এদিকে দীর্ঘক্ষণ সন্তানকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন শিশুটির মা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত দেব চন্দ্রের বাড়ি থেকে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় শিশুটির অতিরিক্ত কান্নাকাটির কারণ জানতে চাইলে লোমহর্ষক এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী শিশুকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় বুধবার বিকেলেই ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে চারঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেব চন্দ্র দাসকে একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকার ম্যাজিক লণ্ঠন স্কুলের সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি দেব চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘটনার সাথে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে রাজশাহী জেলার চারঘাট থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া অপর একটি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারেও র্যাবের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।