পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর মো. আহম্মদ আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর প্রতিবেশী ও দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ দ্রুত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত আহম্মদ আলী প্রতিবেশী ও দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ভুক্তভোগী ছাত্রীদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্রথমবার এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ২ জুলাই দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই স্কুলছাত্রীকে একা পেয়ে ফুঁসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। লোকলজ্জা, তীব্র মানসিক আতঙ্ক এবং প্রাণনাশের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘদিন বিষয়টি নিজের মনেই গোপন রাখে। পরবর্তীতে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে, সম্প্রতি তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর পারিবারিকভাবে আলোচনা করে ভুক্তভোগীর পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আহম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাকিউল আযম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি গ্রহণসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে।” বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।