লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দফায় দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে নিজ এলাকায় এবং পরবর্তীতে ঢাকার গাজীপুরে নিয়ে গিয়ে ওই কিশোরীর ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা (৪০) ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে মুখ চেপে ধরে তাকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে পরিবারসহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে বাগানেই ফেলে রেখে যান অভিযুক্ত মোখলেছার। কিশোরীটি কোনো রকমে বাড়ি ফিরে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখে।
পরবর্তীতে গত ১ জুলাই প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে আবারও ডেকে নেন মোখলেছার রহমান। এরপর তাকে রংপুরে নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয় এবং সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় ঢাকার গাজীপুরে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোখলেছার তাকে আবারও ধর্ষণ করলে কিশোরীটি চিৎকার করে বাইরের লোকজনের সহায়তা চায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে মোখলেছার রহমানকে মারধর করে আটকে রাখে এবং মেয়েটির পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তবে পরবর্তীতে কৌশলে মোখলেছার সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাতে মোখলেছার রহমান ফুলতলা এবং তার সহযোগী দুই নারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত মোখলেছারের ভাই মহুবর রহমান ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মামলাটি নষ্ট করার ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অসহায় বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই ঢাকায় নিয়েছিল। আমি গরিব মানুষ, টাকাপয়সা নেই। লোকজনের ভয়ে প্রথমে মামলা করতে পারিনি, পরে থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব গণমাধ্যমকে জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেছি এবং রাতেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার সকালে ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।’