গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ডিবি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ বুধবার (২৪ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত সাইফুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে। এর আগে গত ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তরসোম এলাকার বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে সাইফুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরদিন ৩ জুন এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিরা গ্রেপ্তার: মামলার পর পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রেজাউল করিম (৫০), নাঈম মিয়া (২৫) এবং আবু তাহের (৩২)।
কলাবাগানে হত্যা, বেড়িবাঁধে লাশ গুম: পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল করিমের মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে ঘটনার রাতে রেজাউল, নাঈম ও আবু তাহের পরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগান এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে সাইফুলকে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধ লুকাতে মরদেহটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।
আদালতে স্বীকারোক্তি ও তদন্তের অগ্রগতি:
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবু তাহের নামের এক আসামি ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।