গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন ও জোরপূর্বক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নিহত হয়েছেন। হামলায় সালাউদ্দিন নামে এক জামায়াতে ইসলামীর কর্মী গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে একটি পক্ষ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা চালায়। এই খবর পেয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করতে ও পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অতর্কিত হামলা ও হতাহত: অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধারের চেষ্টার সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু: উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় কর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সাইফুল্লাহ বারী মারা যান। আহত সালাউদ্দিন বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দাবি:
শিক্ষাঙ্গনের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।