ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের দড়ি লাপাং গ্রামে তিতাস-মেঘনা নদীর ত্রিমুখী মোহনায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
নদীভাঙনে বসতবাড়ি, গাছপালা, পাকা গোসলের ঘাট ও একটি মাদ্রাসার অংশবিশেষ বিলীন হয়ে যাওয়ার পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি লাপাং এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক সপ্তাহে প্রায় পাঁচ কানি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ফলদ ও কাঠগাছের পাশাপাশি বসতবাড়ির অংশবিশেষও নদীতে চলে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নদীভাঙনে চারটি ঘর বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ মানুষের গোসলের জন্য ব্যবহৃত একটি পাকা ঘাট ভেঙে গেছে। দড়ি লাপাং পূর্বপাড়া ফোরকানিয়া নূরানী মাদ্রাসার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার পাশের একটি মসজিদও বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।
পরিদর্শনকালে তিনি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নূর আলম নূর আজ্জম। উদ্বোধনের আগে স্থানীয় মসজিদের ইমাম দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ও চেয়ারম্যান মো. নূর আলম নূর আজ্জমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীভাঙনে আরও বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জিওব্যাগ ফেলার মাধ্যমে আপাতত নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং তাঁদের বসতভিটা, মাদ্রাসা ও মসজিদ রক্ষা পাবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।