মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত মামলায় শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার এই ৩ লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে প্রদান করা হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় সে আদালতেই উপস্থিত ছিল, পরে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতা:
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলায় ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকন্যাকে নির্দয়ভাবে ধর্ষণ করে শাকিল। ঘটনার পর রক্তাক্ত ও অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। বাবা ঘটনাটি গ্রামবাসীকে জানালে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষক শাকিলকে আটকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিলকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহারে দ্রুততম বিচার:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান তদন্ত শেষে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
ন্যায়বিচার দ্রুত করার লক্ষ্যে সশরীর উপস্থিতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধায় ভিডিও কলের মাধ্যমে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন আদালত। মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের সমন্বয়ে ডিজিটাল উপায়ে সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে মেহেরপুর আদালতের এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার শতভাগ ন্যায়বিচার পেয়েছে।”
তবে এই রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ জানিয়েছেন, তারা খুব শীঘ্রই এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল দায়ের করবেন।