খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আড়ংঘাটা এলাকায় বিয়ে, পারিবারিক বিরোধ, মামলা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ফারজানা আলম মুন্নির সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির বিয়ে ও পারিবারিক বিরোধের তথ্যের দাবি পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ইমু শিকদার, মফি রানা, হাসান মেহেদী, হাসনাইন হাওলাদার জিতু এবং আরিফুর রহমান আশিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসান মেহেদীর সঙ্গে বিরোধের পর লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতা হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসনাইন হাওলাদার জিতুর সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের বৈবাহিক তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। পরে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল নিয়ে সম্পর্কের অবসান এবং আরিফুর রহমান আশিককে বিয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের আদেশ এবং তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব।
হাসনাইন হাওলাদার জিতুর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফারজানা আলম মুন্নির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে আরও একটি মামলা থাকার কথাও স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে। এসব মামলার প্রকৃত ধারা, বাদী-বিবাদীর পরিচয়, বর্তমান তদন্তের অবস্থা এবং আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও প্রতিবেশীদের চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ হুমকি-ধমকির অভিযোগও করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর খান ও ফারজানা আলম মুন্নির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
আড়ংঘাটা এলাকায় ‘ন্যায্য বাজার বিডি’ নামে একটি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরবরাহ করা সদস্য কার্ড ও কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, সরকারি নিবন্ধন, পণ্যের উৎস, মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।
কিছু পণ্যের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যতালিকা বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদনের সঙ্গে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিয়ে ও মামলাসংক্রান্ত অভিযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং ‘ন্যায্য বাজার বিডি’র ব্যবসায়িক বৈধতা পৃথকভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আনলে বিভ্রান্তি দূর হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।