লুণ্ঠিত স্বর্ণ, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার উদ্ধার; দুই মামলাতেই জড়িত এক আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও সাকের হোসেন (৩৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পৃথক দুই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণ, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় ২৮ অক্টোবর মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৬৩। এতে দণ্ডবিধির ১৭০/৩৯৫/৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. মজিবর রহমান (৪৮)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার গোবিন্দল গ্রামের মো. সাবুর আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর থানার রামনগর এলাকা থেকে গোল্ডেন লাইন বাসে থাকা বাদীকে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাস থেকে নামিয়ে নেয়।
পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মাগুরা মো. মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণের অংশবিশেষ ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
১. মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), পিতা মো. নুর ইসলাম, মাতা মাজু খাতুন, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
২. তৌকির আহমেদ (২৫), পিতা আতিয়ার রহমান, মাতা জুলেখা বেগম, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৩. মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), পিতা মো. অহের আলী মণ্ডল, মাতা জামেলা খাতুন, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৪. মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), পিতা ছলেমান মোল্যা, মাতা মনোয়ারা ইসলাম, সাং পশু হাসপাতালপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৫. মারুফা আক্তার (৩২), স্বামী মিল্টন মোল্যা, সাং পশু হাসপাতালপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৬. মো. গোলাম জাহিদ (৪৫), পিতা মৃত গোলাম মোস্তফা, মাতা মৃত মাজেদা বেগম, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৭. মো. মারুফ হোসেন (৪৪), পিতা মৃত আব্দুল মজিদ, মাতা মৃত জয়নাব বেগম, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় উদ্ধার করা আলামত:
১. একটি কাটা তেজাবি স্বর্ণের বার, ওজন ৯ ভরি ৭ আনা (মূল নথিতে উল্লেখিত ওজনের একক যাচাই প্রয়োজন)।
২. ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল (ইয়ামাহা XSR ও পালসার)।
৩. একটি সিলভার রঙের টয়োটা ভিটজ প্রাইভেটকার।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় রয়েল কাউন্টারের ভেতরে সাকের হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৪৯। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী শারমিন্নাহার রুমা (৩৪)। তিনি নিহত সাকের হোসেনের স্ত্রী এবং মাগুরা সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
নিহত সাকের হোসেন (৩৬) একই এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
১. রনি শিকদার (৩৮), পিতা মৃত বিরেন্দ্রনাথ শিকদার, মাতা চন্দনা শিকদার, সাং তাতীপাড়া, মাগুরা।
২. শামীমা তাবাসসুম (৩১), পিতা মো. লুৎফর রহমান, মাতা রোকেয়া রহমান, সাং বুজরুক শ্রীকুন্ডী, মাগুরা।
৩. অনিমেষ মজুমদার (৫৫), পিতা মৃত রতন মজুমদার, মাতা মৃত বিসখা মজুমদার, সাং গীতাঞ্জলী সড়ক, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ।
৪. মো. মারুফ হোসেন (৪৪), পিতা মৃত আব্দুল মজিদ, মাতা মৃত জয়নাব বেগম, সাং পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৫. মো. গোলাম জাহিদ (৪৫), পিতা মৃত গোলাম মোস্তফা, মাতা মাজেদা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা পারনান্দুয়ালী, মাগুরা সদর, মাগুরা।
৬. বশির আলী (৩৫), পিতা মৃত আজান বিশ্বাস, মাতা ফুতু বেগম, স্থায়ী ঠিকানা পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা।
হত্যা মামলায় উদ্ধার করা আলামত:
১. একটি বুলেট।
২. একটি খালি কার্তুজ।
৩. পাঁচটি স্বর্ণের বার, ওজন ৫১ ভরি ৯ আনা (৬০৫.৬৯ গ্রাম)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ ডাকাতি ও সাকের হোসেন হত্যা উভয় মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে, দুই মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।