কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম (৪৪) গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১১।
গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর বরকল (সর্দার বাড়ি) এলাকার আবু তালেবের ছেলে।
এসআরবি-১১ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থাটির একটি বিশেষ আভিযানিক দল মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কারাগার থেকে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, তৃতীয় আদালত আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই বছরের ৯ জুলাই থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে কারাগারে বন্দীদের সংঘবদ্ধ দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি মই দিয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে একাধিক বন্দী পালিয়ে যায়।
পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের মধ্যে আবু মোকারমও ছিলেন। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে।
কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে আবু মোকারম বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পারিবারিক শত্রুতার জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখেন। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় আবু মোকারম ছিলেন ১ নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।