চিত্রকর্ম মানুষকে সৃষ্টিশীল ও মানবিক কাজে উৎসাহিত করে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস। তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত চিত্রকর্ম দেখে তিনি অভিভূত। এ ধরনের শিল্পকর্ম বাংলাদেশ ও ভারতের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি তরুণদের সৃষ্টিশীল প্রতিভা ও মেধা শাণিত করতে চিত্রকলা চর্চায় আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী মধুবনী চিত্রকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির রূপ অন্বেষণ’ গ্রুপের আয়োজনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের প্রবীণ চিত্রশিল্পী হ্যারল্ড রশিদ চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল এবং লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে জাদু।
প্রদর্শনীতে মধুবনী চিত্রকলার বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম তুলে ধরা হয়। ২৯ জন শিল্পীর মোট ৩১টি শিল্পকর্ম এতে স্থান পায়। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পধারার নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য দেখতে দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে শিল্পপ্রেমী ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
আয়োজকরা জানান, মধুবনী চিত্রকলার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য সবার কাছে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রদর্শনী ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তারা বিভিন্ন শিল্পকর্ম ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মধুবনী বা মিথিলা চিত্রকলা ভারতের বিহার ও নেপালের মিথিলা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। উজ্জ্বল রং, সূক্ষ্ম রেখা, জ্যামিতিক নকশা এবং প্রকৃতি ও পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন প্রতীকের ব্যবহারের জন্য এ শিল্পধারা পরিচিত। ফুল, লতা-পাতা, মাছ, পাখি, প্রাণী, ময়ূরসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মোটিফ এতে ব্যবহৃত হয়।
পাশাপাশি রামায়ণ, কৃষ্ণলীলা ও হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিও মধুবনী চিত্রকলায় স্থান পায়।
ঐতিহ্যগতভাবে বাড়ির দেয়াল ও মেঝেতে এ চিত্র আঁকা হলেও বর্তমানে কাগজ, কাপড়, ক্যানভাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মধুবনী চিত্রকলা তৈরি করা হচ্ছে।