লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে লিয়াকত আলী লাদেন (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত লাদেন আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারি এলাকার আশরাফুল হকের ছেলে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল বিষয়গুলো নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
বিরোধের সূত্রপাত: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সারপুকুর ইউনিয়নের মাগুরের পার এলাকার বাসিন্দা জুয়েলের ছোট ছেলের সাথে নিহত লাদেনের সামান্য কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে। এই তুচ্ছ ঘটনার জেরে সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সমঝোতা বৈঠক ও অতর্কিত হামলা: উদ্ভূত বিরোধ মেটাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বৈঠক শেষ হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন সারপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি দোকানের পাশে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা জুয়েল এবং তার ছেলে রকি পেছন থেকে লাদেনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু: আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা লাদেনকে উদ্ধার করে দ্রুত লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডক্টর ইমরুল হাসান লাদেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনদের আর্তনাদ ও বিচার দাবি: ঘটনার পর থেকেই ঘাতক বাবা-ছেলে পলাতক রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহত লাদেনের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।