রাজধানীর দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলগেট ও গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় পদ হারাতে হলো তাকে।
কী ঘটেছিল ১৭ অক্টোবর?
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল উঁচিয়ে ইশরাক হোসেন চিৎকার করছেন “ধর ধর ধর”। এ সময় তার পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, “একেবারে গুলি করে দেব”।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার সাথে অস্ত্র হাতে আরও ৩ জন উপস্থিত ছিলেন—যাদের মধ্যে ১ জন সরকারি দেহরক্ষী এবং ২ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী—তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু।
কোথায় ছিলেন পাভেল শিকদার?
অভিযানে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, স্থানীয়দের বারবার অভিযোগ এবং পুলিশের দেরিতে উপস্থিত হওয়ার কারণে তারা সেখানে যেতে বাধ্য হন। এছাড়া ভিডিওতে যাকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তিনি সরকারি দেহরক্ষী বলে দাবি করেন পাভেল।
অস্ত্রের বৈধতা ও আইনি প্রশ্ন:
ইশরাকের অস্ত্র নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি অস্ত্রটি সংগ্রহ করেন। যে কারণে নির্বাচনী হলফনামায় এটি অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ ছিল না এবং অস্ত্রটি লাইসেন্সকৃত।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫(ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, বৈধ অস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার জন্য বহন করা যাবে, কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয় এমনভাবে তা প্রদর্শন করা যাবে না।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পদত্যাগ ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য:
ব্যাপক সমালোচনার মুখে আজ ১৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “আজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, দলীয় ও বিশেষ কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
ইশরাক হোসেন বর্তমানে কারাবন্দী না থাকলেও অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ২১ ধারার আওতায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পাভেল শিকদারের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রিপোর্টার: রবিউল ইসলাম, কালান্তর নিউজ (খুলনা)