যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিপরীতে ইরানের পাল্টা আঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, আড়াই মাসের এই সংঘাতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
দেশভিত্তিক প্রাণহানির পরিসংখ্যান:
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। দেশটিতে আহতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৭০২ জন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ।
পাল্টা আক্রমণে ইরান ও হিজবুল্লাহ:
জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় ইসরায়েলে ২৬ জন এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম (CENTCOM)। এছাড়া লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার প্রভাব:
যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই)। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতে ৭ জন এবং ওমান, সৌদি ও বাহরাইনে ৩ জন করে নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে আরব আমিরাতে হামলায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০ জন প্রবাসী কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
জ্বালানি সংকট ও বিশ্বরাজনীতি:
লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কাতার গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করায় সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন জাহাজে আঘাত করা হলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে। পাল্টা জবাবে ইরানও তাদের জলসীমায় অনধিকার প্রবেশকারীদের ওপর সরাসরি গুলির হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।