দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের চুক্তির শেষ প্যাকেজটি মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি পুথান-৩৬’ ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের সাথে সম্পাদিত এই চুক্তির শেষ চালানটি পৌঁছানোর মাধ্যমে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলো। গত ২০ জানুয়ারি প্রথম চালান পৌঁছানোর পর থেকে পর্যায়ক্রমে ১০টি জাহাজের মাধ্যমে এই চুক্তির সকল চাল মোংলা বন্দরে খালাস করা হয়েছে।
খালাস ও গুণগত মান পরীক্ষা:
মোংলা বন্দর এলাকার সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক আবদুস সোবাহান জানিয়েছেন, আমদানিকৃত এই চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শনিবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ভৌত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ল্যাব টেস্ট ও নমুনা পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার (২৮ জুন) বিকেল থেকে জাহাজটি থেকে চাল খালাস কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, মোট আমদানিকৃত চালের ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করার পরিকল্পনা ছিল। মোংলা বন্দরের অংশটি এই চালানের মাধ্যমে পুরোপুরি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা ও বন্দরের সক্ষমতা:
পরিবহন ও খালাস প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাসে প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্যান্য কারিগরি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও মোংলা বন্দরের আধুনিক সক্ষমতার কারণে চাল খালাস কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকায় নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে খালাস প্রক্রিয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। ‘এমভি পুথান-৩৬’ জাহাজ থেকে চাল খালাসের সাথে সাথেই তা নদীপথে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে প্রেরণের জন্য পর্যাপ্ত লজিস্টিক ও পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাজার স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা:
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই চালানের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় দেশের খাদ্য মজুদের ভারসাম্য আরও মজবুত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ধরে রাখতে এই আমদানিকৃত চাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাল গুদামজাতকরণ এবং দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বিতরণ করাই প্রশাসনের পরবর্তী মূল লক্ষ্য।