দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিজিবির বিশেষ অভিযানে জব্দ করা প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিনাজপুর সেক্টর।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ মাঠে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য রোলারের নিচে পিষে এবং আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, দিনাজপুর সেক্টরের অধীনে থাকা জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি), ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিভিন্ন ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করেছিল।
ধ্বংসকৃত মাদকের বিবরণ ও মূল্য: ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, ইয়াবা, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, কোকেন, হেরোইন, গাঁজা এবং যৌন উত্তেজক সিরাপসহ বিভিন্ন প্রকারের ক্ষতিকর মাদক রয়েছে। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংস করা এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য মোট ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির রংপুর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের, পিএসসি, জি+।
সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সতর্ক:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এটি দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও ক্ষতিকর। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ রোধে এবং যুবসমাজকে বাঁচাতে বিজিবির এমন কঠোর ও নিয়মিত কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে যেকোনো মূল্যে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি দিনরাত সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” মাদকের বিস্তার সম্পূর্ণ রুখে দিতে এবং এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।